Showing posts with label অশুদ্ধি সংশোধন. Show all posts
Showing posts with label অশুদ্ধি সংশোধন. Show all posts

Sunday, October 10, 2021

১ম পর্ব -- স্বরবর্ণ

১ম পর্ব -- স্বরবর্ণ 




ভাষা শিক্ষার একদম প্রথম সিঁড়ি হল বর্ণমালা। আমরা এখান থেকেই শুরু করি। অর্থাৎ এক্কেবারে অ, আ, ক, খ থেকে যাত্রা শুরু। অবহেলা করবেন না। আপনি যদি ‘হ্রস্ব ই’ কে ‘রসই’ বলেন বা লেখেন তাহলে আপনাকে এখান থেকেই শুরু করতে হবে। আর যারা গোড়ায় গলদ দুর করতে চান, (ছাত্র, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ফেসবুককর্মী) তাঁদের অবশ্যই মনোযোগ দেওয়া উচিত।

বর্ণ আর অক্ষর কিন্তু এক নয়। অক্ষর হল ইংরাজিতে যাকে বলে syllable, অর্থাৎ একসঙ্গে যতটুকু উচ্চারিত হয়। যেমন, অজ্ঞতা=অগ্‌+গ+তা। তিনটি অক্ষর বা syllable রয়েছে ‘অজ্ঞতা’ শব্দটিতে।

বর্ণ আর ধ্বনিও কিন্তু এক নয়। ধ্বনি হল শুধুমাত্র আওয়াজ (sound)। আর বর্ণ হল সেই ধ্বনির নাম। যেমন, ‘ই’ একটি ধ্বনি, একে একটু বেশি সময় উচ্চারণ করলে ‘ঈ’ হয়। ‘ই’ হল ধ্বনি, ‘হ্রস্ব ই’ হল বর্ণ, ‘ঈ’ হল ধ্বনি, ‘দীর্ঘ ঈ’ হল বর্ণ।

বাংলায় মোট ৫০ টি বর্ণ রয়েছে বর্তমানে। এর মধ্যে ১১ টি হল স্বরবর্ণ এবং ৩৯ টি ব্যঞ্জনবর্ণ।

স্বরবর্ণ

অ আ ই ঈ

উ ঊ ঋ

এ ঐ ও ঔ

এখানে রয়েছে মোট ১২ টি স্বরবর্ণ। এর মধ্যে ৯ (হ্রস্ব লি) এর ব্যবহার বাংলায় নেই, তাই এটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলায় এখন রয়েছে ১১ টি স্বরবর্ণ।

স্বরবর্ণকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

হ্রস্বস্বর        দীর্ঘ স্বর      যৌগিক স্বর

                                 

                                  

                

                

                  

 ‘অ’ যেহেতু আরেকটি নেই, হ্রস্ব বলার দরকার নেই। ‘আ’র ক্ষেত্রেও তা’ই। একই পাড়ায় দু’জন বসির থাকলে একজনকে লম্বা বসির, আরেকজনকে বেঁটে বসির বলা হয়। ই (e) দু’টি আছে, তাই একটি হ্রস্ব, আরেকটি দীর্ঘ। উ/ঊ-র ক্ষেত্রেও তাই। ঋ একটি, কিন্তু তাকে হ্রস্ব বলা হয়, কারণ দীর্ঘ রি ও দীর্ঘ লি বলে দু’টি বর্ণ ছিল। এ, ও দীর্ঘ স্বর। ঐ=ও+ই, ঔ=ও+উ – দু’টি স্বর যোগ হয়ে এই স্বর, তাই এগুলো যৌগিক। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালা থেকে ৠ (দীর্ঘ রি), ৡ (দীর্ঘ লি) বাদ দেন, কারণ বাংলায় এগুলোর ব্যবহার নেই। ‘অ৹’ ও ‘অঃ’ কে স্বরবর্ণ থেকে সরিয়ে ব্যঞ্জনবর্ণে স্থান দেন ং ও ঃ রূপে এবং তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেন ৺ । এছাড়াও ড়, ঢ়, য় এই তিনটি ব্যঞ্জনবর্ণ যোগ করেন। তারপর দেড়শ’ বছরে শুধুমাত্র ৯ (হ্রস্ব লি)-টাই সরেছে বাংলা থেকে।

বাংলায় দীর্ঘস্বর নেই বললেই চলে। একাক্ষরযুক্ত শব্দে ‘আ’ সামান্য দীর্ঘ হয়, যেমন গান, স্বাদ, মা, না ইত্যাদি। অন্যান্য ধ্বনির ক্ষেত্রেও এরকম ব্যতিক্রম আছে। এই সব বিবেচনা করে তৎসম শব্দ ছাড়া অন্য শব্দে দীর্ঘস্বরের ব্যবহার এখন নেই। তৎসম শব্দের বানান পরিবর্তন না করার ফরমান রয়েছে। কিন্তু এতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বানানের ক্ষেত্রে। আর এই সমস্যা অনেককেই বাংলা লেখালেখি থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছে। যা একটি ভাষার আয়ুর পক্ষে হুমকি স্বরূপ। বর্তমান সময়ে এই বাছবিচার থেকে মুক্তির চেষ্টা চলছে।

স্বরবর্ণ সম্পর্কে আরও অনেক কিছু বলার রয়েছে। তবে আপাতত এটুকুই যথেষ্ট। পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করব ব্যঞ্জনবর্ণ নিয়ে। আপনাদের কোনও ব্যাপারে অমত থাকলে মন্তব্য করে সংশোধনের সুযোগ দেবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।



Friday, September 17, 2021

 ইলিশ মাছ খেতে হলে তার কাঁটা বাছতে হবে। পদ্ম তুলতে হলেও তাই। আর কোনও কিছু শিখতে হলে কষ্ট তো করতেই হয়। গান শিখবেন আর রেওয়াজ করবেন না, তা কী করে হয়? অন্যান্য ভাষার মতো বাংলা শিখতেও একেবারে গোড়া থেকে আরম্ভ করতে হবে। 

মনে হতে পারে এ আবার কী! এখন আবার অ, আ শিখতে হবে নাকি? 

আলবাৎ শিখতেই হবে। অ-আ না শিখে বাংলা শিখবেন কী করে? 

অ , আ জানি না ভাবছেন? 

হ্যাঁ, অ-আ জানেন না আপনি। 

তাহলে পরীক্ষা হয়ে যাক। পারলে তো ভালোই। না  পারলে শিখতে তো হবেই।

ই, উ, ঋ বানান করে লিখুন তো।

স, ষ, শ বানান করে লিখুন তো। 

বর্ণমালায় 'ব' ২টা কেন? 

ড়, ঢ় বানান করে লিখুন। 

এই চারটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিন। আগামি দিন আবার দেখা হবে উত্তর নিয়ে। 

পর্ব -- ৯ ( নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি, বাংলা সন্ধি ও জরুরি সন্ধি বিচ্ছেদ)

  এই পর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সন্ধির তালিকা প্রকাশ করব, সঙ্গে থাকবে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধিও। তবে তার আগে বাংলা সন্ধি নিয়ে আ...